Breaking News

নির্মলেন্দু গুণ

নির্মলেন্দু গুণ (Nirmalendu Goon) বর্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি। তাকে কবিদের কবিও বলা হয়ে থাকে। নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোণায় জেলার বারহাট্টা উপজেলার কাশবনে জন্মগ্রহণ করেন। নির্মলেন্দু গুণের প্রেম, ভালোবাসা, নারী, বিরহ ও স্বাধীনতার কবিতা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ইতিমধ্যে পেয়েছেন বাংলা একাডেমী ,একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরুস্কার। স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, হুলিয়া, তোমার চোখ এতো লাল কেন? ইত্যাদি তার বিখ্যাত কবিতা (Poem)।

আগ্নেয়াস্ত্র __নির্মলেন্দু গুণ

পুলিশ স্টেশনে ভিড়,আগ্নেয়াস্ত্র জমা নিচ্ছে শহরের সন্দিগ্ধ সৈনিক। সামরিক নির্দেশে ভীত মানুষের শটগান, রাইফেল, পিস্তল এবং কার্তুজ, যেন দরগার স্বীকৃত মানৎ; টেবিলে ফুলের মতো মস্তানের হাত। আমি শুধু সামরিক আদেশ অমান্য করে হয়ে গেছি কোমল বিদ্রোহী, প্রকাশ্যে ফিরছি ঘরে অথচ আমার সঙ্গে হৃদয়ের মতো মারাত্মক একটি আগ্নেয়াস্ত্র,আমি জমা দেই নি।

Read More »

ফুলদানি __নির্মলেন্দু গুণ

যেকোনো বাগান থেকে যেটা ইচ্ছে সেই ফুল, যেকোনো সময় আমি তুলে নিয়ে যদি কভু তোমার খোঁপায়, আহা, অজগর তোমার খোঁপায় সাজাবার সুজোগ পেতাম–; তাহলে দেখতে লীলা, তোমার শরীর ছুঁয়ে লাবণ্যের লোভন ফুলেরা উদ্বেল হৃদয়ে নিত্য বিপর্যস্ত হতো, মত্ত মমতায় বলতো আশ্চর্য হয়ে, হতো বলতেইঃ ‘খোঁপার মতন কোনো ফুলদানি নেই৷’

Read More »

তোমার চোখ এতো লাল কেন? – নির্মলেন্দু গুণ

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে , আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক, শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য । বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত । আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ আমাকে খেতে দিক । আমি হাতপাখা নিয়ে কাউকে আমার পাশে ...

Read More »

বউ __নির্মলেন্দু গুণ

কে কবে বলেছে হবে না? হবে,বউ থেকে হবে । একদিন আমিও বলেছিঃ ‘ওসবে হবে না ।’ বাজে কথা। আজ বলি, হবে, বউ থেকে হবে । বউ থেকে হয় মানুষের পুনর্জন্ম, মাটি,লোহা, সোনার কবিতা, —কী সে নয়? গোলাপ, শেফালি, যুঁই, ভোরের আকাশে প্রজাপতি, ভালোবাসা, ভাগ্য, ভাড়াবাড়ি ইতিপূর্বে এভাবে মিশেনি । ছড়িয়ে ...

Read More »

বসন্ত বন্দনা – নির্মলেন্দু গুণ

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে । আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,–দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক । এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরণ, মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসে অনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক ...

Read More »

সেই প্রজাপতি __নির্মলেন্দু গুণ

ফুলের মতো দেয়ালটাতে একটি প্রজাপতি, দুঃসাহসে বসলো এসে আলোর মুখোমুখি; চিত্রিত নয় কালো রঙের পাখনা দু’টি মেলে । এবার বুঝি এলে ? দেয়াল জুড়ে লাগল তার ঘরে ফেরার কাঁপন, প্রাণের মাছে ফিরল বুঝি চিরকালের আপন । ভালোবাসার অর্ঘ্য দিয়ে মৃত্যুখানি কেনা, শেষ করেছি প্রথম দিনে হয়নি শুধু চেনা! চোখের পাশে ...

Read More »

আত্মকেন্দ্রিক স্বপ্ন __নির্মলেন্দু গুণ

প্রাণে জ্বলে ওঠে গগনচুম্বী বাসনা ঢেউ, তোমাকে পাবে না পরান ভরিয়া আমি ছাড়া কেউ । তাই বুঝি এই ঘটনাটি কত ধ্রুব, অবশ্য; আমাকেও দ্রুত হতে হবে জানি দৃঢ়, স্ববশ্য । আমি চলে যাব পার হয়ে নদী থামব না মোটে, দেখবে তোমার আকাশে তখন কত তারা ফোটে- হলুদ-সবুজ, কালো-লাল সব প্রীতি-নমস্য ...

Read More »

প্রশ্নাবলী __নির্মলেন্দু গুণ

কী ক’রে এমন তীক্ষ্ণ বানালে আখিঁ, কী ক’রে এমন সাজালে সুতনু শিখা? যেদিকে ফেরাও সেদিকে পৃথিবী পোড়ে । সোনার কাঁকন যখন যেখানে রাখো, সেখানে শিহরে, ঝংকার ওঠে সুরে । সুঠাম সবুজ মরাল বাঁশের গ্রীবা কঠিন হাতের কোমল পরশে জাগে, চুম্বন ছাড়া কখনো বাঁচে না সে যে । পুরুষ চোখের আড়ালে ...

Read More »

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি __নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল ছিল কালো-লালে মেশা একটি অদ্ভুত টুনটুনি । লাফাচ্ছিল ডাল থেকে ডালে, পাতার আড়ালে, ফুল থেকে ফুলে । তার সোনামুখী ঠোঁট, যেন কলমের ডগায় বসানো একরত্তি হীরে । প্রতিটি আঁচড়ে কেটে ভাগ করছিল ফুল থেকে মধু, মধু থেকে ফুল; আমার সমস্ত কলতল ভেসে যাচ্ছিল রক্তকরবীর মধুস্রোতে । আজ সকাল থেকেই ...

Read More »

প্রলেতারিয়েত __নির্মলেন্দু গুণ

যতক্ষণ তুমি কৃষকের পাশে আছো, যতক্ষণ তুমি শ্রমিকের পাশে আছো, আমি আছি তোমার পাশেই। যতক্ষণ তুমি মানুষের শ্রমে শ্রদ্ধাশীল যতক্ষণ তুমি পাহাড়ী নদীর মতো খরস্রোতা যতক্ষণ তুমি পলিমৃত্তিকার মতো শস্যময় ততক্ষণ আমিও তোমার। এই যে কৃষক বৃষ্টিজলে ভিজে করছে রচনা সবুজ শস্যের এক শিল্পময় মাঠ, এই যে কৃষক বধূ তার ...

Read More »
DMCA.com Protection Status