পূর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৯ – পূর্ণেন্দু পত্রী

তোমাকে বাজাই সমুদ্র-শাঁখ তুমি গাছে ফুল আসে ফুলেরা কিশোরী হয় । ডালপালাগুলো সবুজ পাতার খামে চিঠি লিখে লিখে প্রেম নিবেদন করে । ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পরে সমগ্র বনভূমি । তোমাকে ভাসাই মেঘের নৌকো তুমি তুমি জান লাল প্রবালের নীল দ্বীপ । অমরাবতীর দরজায় এসে নামো, খাট-পালঙ্ক পেতে দেয় জোৎস্নারা । ...

Read More »

কথোপকথন – ৩৮ – পূর্ণেন্দু পত্রী

-নন্দিনী! আমার খুব ভয় করে ,বড় ভয় করে! কোনও একদিন বুঝি জ্বর হবে ,দরজা দালান ভাঙ্গা জ্বর তুষার পাতের মত আগুনের ঢল নেমে এসে নিঃশব্দে দখল করে নেবে এই শরীরের শহর বন্দর। বালিশের ওয়াড়ের ঘেরাটোপ ছিঁড়ে ফেলা তুলো এখন হয়েছে মেঘ,উঁড়ো হাস, সাঁদা কবুতর। সেই ভাবে জ্বর এসে আমাকে উড়িয়ে ...

Read More »

কথোপকথন – ৩৭ – পূর্ণেন্দু পত্রী

ভালবাসা, সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়। নন্দিনী! এসব কথা তোমার কখনো মনে হয়? চক্রান্তের মত যেন, সারা গায়ে অপরাধপ্রবণতা মেখে একটি যুবক আজ যুবতীর কাছাকাছি এসে সাদা রুমালের গায়ে ফুলতোলা শেখে। যেন এই কাছে আসা সমাজের পক্ষে খুব বিপজ্জনক। যেন ওরা আগ্নেয়াস্ত্র পেয়ে গেছে মল্লিকবাগানে যেন ওরা হাইজ্যাকের নথিপত্র জানে ...

Read More »

কথোপকথন – ৩৬ – পূর্ণেন্দু পত্রী

তুমিই আমার ধ্বংস হবে তা জানলে এমন করে কি ভাসাতাম ডিঙি নৌকো? ভাসাতাম? তুমি চলে যাবে সমুদ্রে আগে বলনি তাহলে কি গায়ে মাখাতাম ঝড়-ঝঞ্ঝা? মাখাতাম? নুড়িতে-পাথরে নূপুর বাজিয়ে ছোট্ট জলরেখা ছিলে দুই হাত দিয়ে ধরেছি। ধরা দিয়েছ। এখন দুকুল ভরেছে প্রবাহে প্লাবনে উঁচু মাস্তুলে জাহাজ এসেছে ডাকতে। ওকে সাড়া দাও।।

Read More »

কথোপকথন – ৩৫ – পূর্ণেন্দু পত্রী

-লোকে বলে শুনি সেলায়ে তোমার পাকা হাত ছুঁচ দিয়ে লেখ কবিতা। -গোয়েন্দা নাকি আমার যা কিছু লুকানো জানতে হবে কি সবই তা? -তর্ক কোরো না জুড়ে দেবে কিনা এখুনিই হৃদপিন্ডের ক্ষতটা। -দিতে পারি তবে মজুরি পড়বে বিস্তর জোগাতে পারবে অতটা? -কাজ যদি হয় নিখুঁত, পাবেই মজুরি, ভেবেছ পালাব গর্তে? -হৃদপিন্ডের ...

Read More »

কথোপকথন -৩৪ – পূর্ণেন্দু পত্রী

– বল তো কত বয়স হল তার? – কার? – যার মাথাভর্তি সবুজ দেবদারু চুল যার টলমলে পা কেবল ভুল পথের কাঁটার উপরে যার সমস্ত কথাই অস্পষ্ট, সন্ত্রাসবাদীদেরমত সংকেতময় এবং বিস্ফোরক যে কেবল হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় এমন বাগানে যেখানে ফুলের গায়ে হাত ছোঁয়ালেই অট্টহাসির বিদ্যুৎ যেখানে লতা গুল্মের ...

Read More »

কথোপকথন -৩৩ – পূর্ণেন্দু পত্রী

খবর্দার! হাত সরিয়ে নাও। ব্যাগে ভরে নাও টাকাগুলো। আজ সমস্ত কিছুর দাম দেবো আমি। কী হচ্ছে কি শুভঙ্কর? কেন এমন পাগলামির ঢেউয়ে দুলছো? এইজন্যেই তোমার উপর রাগ হয় এমন। মাঝে মাঝে অর্থমন্ত্রীদের মতো গোঁয়ার হয়ে ওঠো তুমি। কাল কতবার বলেছিলুম, চলো উঠি, চলো উঠি। আকাশ আলকাতরা হয়ে আসছে, চলো উঠি। ...

Read More »

কথোপকথন -৩১ – পূর্ণেন্দু পত্রী

নন্দিনী – যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি আমি যেন মেঘে জলে মেশা কোনো আত্মহারা পাখি। বলতো কি পাখি? শুভঙ্কর – যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা উল্কার স্ফুলিঙ্গ দিয়ে অন্ধকারে দীর্ঘ ছবি আঁকা। বলতো কি ছবি? নন্দিনী – যতক্ষন কথা বলো, হাসো ও ঝরাও ধারাজল বীজ থেকে ...

Read More »

কথোপকথন –৩০ – পূর্ণেন্দু পত্রী

তুমি আমার সর্বনাশ করেছ শুভঙ্কর কিচ্ছু ভাল লাগে না আমার কিচ্ছু না জ্বলন্ত উনুনে ভিজা কয়লার ধোঁয়া আর শ্বাস কষ্ট ঘিরে ফেলেছে আমার দশ দিগন্ত এখন বৃষ্টি নামলে কানে আসে নদীর পাড় ভাঙ্গার অকল্যাণ শব্দ এখন জোছনা ফোটলেই দেখতে পাই অন্ধকার শশান যাত্রীর মত ছুটে চলেছি মৃতদেহের খোজে কিচ্ছু ভাল ...

Read More »

কথোপকথন – ২৯ – পূর্ণেন্দু পত্রী

– দূরে চলে যাও। তবু ছায়া আঁকা থাকে মেঘে। যেন ওড়ে বাতাসের সাদা বারান্দায় বালুচরী বহু বর্ণময়। গান শেষ তবু তখনো তার প্রতিধ্বনিরা দশ দিকে। যেন শুধু তুমি তোমারই সব মূর্তিতে ঠাসা মিউজিয়াম ট্রাম লাইনের, ছাইগাদার গর্তে গভীর কলকাতায়। কী করে এমন পারো তুমি নন্দিনী? – সহজ ম্যাজিক। শিখবে কি? ...

Read More »