Breaking News
Home / বাংলা কবিতা (কবিদের তালিকা অনুযায়ী) (page 22)

বাংলা কবিতা (কবিদের তালিকা অনুযায়ী)

বাংলা কবিতা

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন – বিষ্ণু দে

তোমাদেরও মনে হয়, মনে হয় তোমারও প্রত্যেকে লেনিন ? লাজুক সুকান্ত ওই কথাটাই বলেছিল কৈশোর সংরাগে বহুদিন আগে – সহজ কিশোর বিনম্র কবি বাংলায় তার কথা শতবর্ষে জাগে | কারণ লেনিন নন দেবতা বা পুরাণ-নায়ক, তিনি একালের বীর, স্থির ধীর, ভাবুক, আত্মস্থ, নেতা, মানবিক ; নিজেকে জাহির কখনোই করেননি ; ...

Read More »

তুমিই মালিনী – বিষ্ণু দে

তুমিই মালিনী, তুমিই তো ফুল জানি । ফুল দিয়ে যাও হৃদয়ের দ্বারে, মালিনী, বাতাসে গন্ধ, উৎস কি ফুলদানি, নাকি সে তোমার হৃদয়সুরভি হাওয়া ? দেহের অতীতে স্মৃতির ধূপ তো জ্বালি নি কালের বাগানে থামে নি কো আসা যাওয়া ত্রিকাল বেঁধেছ গুচ্ছে তোমার চুলে, একটি প্রহর ফুলহার দাও খুলে,কালের মালিনী ! ...

Read More »

জল দাও – বিষ্ণু দে

তোমার স্রোতের বুঝি শেষ নেই, জোয়ার ভাঁটায় এ-দেশে ও-দেশে নিত্য ঊর্মিল কল্লোলে পাড় গড়ে পাড় ভেঙে মিছিলে জাঠায় মরিয়া বন্যায় যুদ্ধে কখনো-বা ফল্গু বা পল্বলে কখনো নিভৃত মৌন বাগানের আত্মস্থ প্রসাদে বিলাও বেগের আভা আমি দূরে কখনো-বা কাছে পালে-পালে কখনো-বা হালে তোমার স্রোতের সহযাত্রী চলি, ভোলো তুমি পাছে তাই চলি ...

Read More »

৮ মার্চ ১৯৬০ – ফিরে এসো চাকা – বিনয় মজুমদার

একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত পস্তাবে স্বচ্ছ জলে পুনরায় ডুবে গেলো — এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে বেগনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হ’লো ফল | বিপন্ন মরাল ওড়ে, অবিরাম পলায়ন করে, যেহেতু সকলে জানে তার শাদা পালকের নিচে রয়েছে উদগ্র উষ্ণ মাংস আর মেদ ; স্বল্পায়ু ...

Read More »

২৬ অগাষ্ট ১৯৬০ – ফিরে এসোচাকা – বিনয় মজুমদার

মুকুরে প্রতিফলিত সূর্যালোক স্বল্পকাল হাসে | শিক্ষায়তনের কাছে হে নিশ্চল, স্নিগ্ধ দেবদারু জিহ্বার উপরে দ্রব লবণের মত কণা-কণা কী ছড়ায়, কে ছড়ায় ; শোনো, কী অস্ফুট স্বর, শোনো ‘কোথায়, কোথায় তুমি, কোথায় তোমার ডানা, শ্বেত পক্ষীমাতা, এই যে এখানে জন্ম, একি সেই জনশ্রুত নীড় না মৃত্তিকা? নীড় না মৃত্তিকা পূর্ণ ...

Read More »

২৭ জুন ১৯৬২ – ফিরে এসো চাকা – বিনয় মজুমদার

করবী তরুতে সেই আকাঙ্খিত গোলাপ ফোটে নি | এই শোকে ক্ষিপ্ত আমি ; নাকি ভ্রান্তি হয়েছে কোথাও? অবশ্য অপর কেউ, মনে হয়, মুগ্ধ হয়েছিল, সন্ধানপর্বেও দীর্ঘ, নির্নিমেষ জ্যোত্স্না দিয়ে গেছে | আমার নিদ্রার মাঝে, স্তন্যপান করার মতন ব্যবহার ক’রে বলেশিহরিত হৃদয়ে জেগেছি | হায় রে বাসি না ভালো, তবু এও ...

Read More »

২৯ জুন ১৯৬২ – ফিরে এসো চাকা – বিনয় মজুমদার

কবিতা বুঝিনি আমি ; অন্ধকারে একটি জোনাকি যত্সামান্য আলো দেয়, নিরুত্তাপ, কোমল আলোক | এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পারে অধিক নীলাভ সেই প্রকৃত আকাশ প’ড়ে আছে— এই বোধ সুগভীরে কখন আকৃষ্ট ক’রে নিয়ে যুগ যুগ আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে, তারকা, জোনাকি—সব ; লম্বিত গভীরহয়ে গেলে না-দেখা গহ্বর যেন ...

Read More »

২৯ জুন ১৯৬২ – ফিরে এসো চাকা – বিনয় মজুমদার

তুমি যেন ফিরে এসে পুনরায় কুণ্ঠিত শিশুকে করাঘাত ক’রে ক’রে ঘুম পাড়াবার সাধ ক’রে আড়ালে যেও না ; আমি এত দিনে চিনেছি কেবল অপার ক্ষমতাময়ী হাত দুটি, ক্ষিপ্র হাত দুটি— ক্ষণিক নিস্তারলাভে একা একা ব্যর্থ বারিপাত | কবিতা সমাপ্ত হতে দেবে নাকি? সার্থক চক্রের আশায় শেষের পংক্তি ভেবে ভেবে নিদ্রা ...

Read More »

এরূপ বিরহ ভালো – ফিরে এসোচাকা – বিনয় মজুমদার

এরূপ বিরহ ভালো ; কবিতার প্রথম পাঠের পরবর্তীকাল যদি নিদ্রিতের মতো থাকা যায়, স্বপ্নাচ্ছন্ন, কাল্পনিক ; দীর্ঘকাল পরে পুনরায় পাঠের সময় যদি শাশ্বত ফুলের মতো স্মিত, রূপ, ঘ্রাণ, ঝ’রে পড়ে তাহলে সার্থক সব ব্যথা, সকল বিরহ, স্বপ্ন ; মদিরার বুদ্বুদের মতো মৃদু শব্দে সমাচ্ছন্ন, কবিতা, তোমার অপ্রণয়। হাসির মতন তুমি ...

Read More »

আমিই তো চিকিৎসক – ফিরে এসো চাকা – বিনয় মজুমদার

আমিই তো চিকিৎসক, ভ্রান্তিপূর্ণ চিকিৎসায় তার মৃত্যু হলে কি প্রকার ব্যাহত আড়ষ্ট হয়ে আছি। আবর্তনকালে সেই শবের সহিত দেখা হয়; তখন হৃদয়ে এক চিরন্তন রৌদ্র জ্বলে ওঠে। অথচ শবের সঙ্গে কথা বলা স্বাভাবিক কিনা ভেবে-ভেবে দিন যায়; চোখাচুখি হলেলজ্জা ভয়ে দ্রুত অন্য দিকে যাই; কুক্কুপিন্ট ফুলের ভিতরে জ্বরাক্রান্ত মানুষের মত ...

Read More »
DMCA.com Protection Status