Breaking News
Home / Golpo গল্প / প্রেমের কাহিনী / ভালোবাসা কি? ভালোবাসার সংজ্ঞা

ভালোবাসা কি? ভালোবাসার সংজ্ঞা

ভালোবাসা  ( Valobasa )  বলতে মানুষের মনের আবেগ ও অনুভূতিকে বুঝায়। যা দেখা যায় না, ধরাও যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়। মানুষ সেই ভালোবাসাকে তার মুখের কথা, চোখের ইশারা, বা তার বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশ করে।  আসলে ভালোবাসা হচ্ছে কারো প্রতি অতিরিক্ত স্নেহের বহিঃপ্রকাশ। সেটা হতে দুজন দুজনের প্রতি অথবা একজন অন্যজনের প্রতি। তবে সাধারণত একতরফা ভালোবাসাকে পূর্ণাঙ্গ ভালবাসা বলা হয় না, ভালোবাসা হচ্ছে দুটি হৃদয়ের মিলন যেখানে একজন অন্যজনের প্রতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি হতে পারে শারীরিক বা মানবীয়। তবে যে সম্পর্ক শুধু শারীর নির্ভর সেটাকে ভালোবাসা বলে না, সেটাকে বলে জৈবিক চাহিদা।

ভালবাসা  হলো মানসিক বহিঃপ্রকাশ, তবে মানবীয় ভালোবাসার সাথে শারীরিক সম্পর্কও থাকতে পারে।  ভালোবাসা বলতে আমরা নিঃস্বার্থতাকেই বুঝি, যেখানে নিঃস্বার্থভাবে একজন অন্যজনকে ভালোবেসে যাবে। যে ভালোবাসার মধ্যে স্বার্থ চলে আসবে তা বেশি দিন টিকে না। কারণ সে ভালোবাসার মধ্যে থাকে লোভ লালসা। বিয়ের আগে শা’রীরিক সম্পর্ক একটি ভালোবাসা ভেঙ্গে যাওয়ার মূল হাতিয়ার হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। আসলে ভালোবাসা হচ্ছে এক ধরণের আকর্ষণ যা নেশার মতো কাজ করে। কিন্তু পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে দৈহিক বন্ধন হয়ে গেলে সেই আকর্ষণ আর থাকে না। তাই বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ সম্পর্কই ভেঙ্গে যাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে প্রেমে পড়লে মানুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়, ফলে এক সঙ্গী অন্য সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। প্রেমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রেমিক-প্রেমিকার দেহে ডোপামিন নামে এক ধরনের হরমোন বেড়ে যায় যাকে সুখের হরমোন বলা হয়ে থাকে। আর এই সুখের হরমোন মানুষের মনের অনুভূতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে দেয়। ডোপাটিন হরমোনের ফলে আবেগ নিয়ন্ত্রনের হরমোন সেরোটোনিন কমে যায় ফলে দুজন মানুষ দুজনকে ছাড়া থাকতে পারে না বা কল্পনাও করতে পারে না।

আজকাল ভালোবাসার বাণী নিভৃতে কাঁদে। একটি সম্পর্ক হতেও দেরি লাগে না আবার ভাঙতেও দেরি লাগে না। এগুলো আসলে ভালোবাসার গল্প না, একগুলো হলো দৈনন্দিন চাহিদার কথা। একজন মানুষকে দেখে আপনার ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু এই নয় যে সাথে সাথেই তাকে ভালোবাসতে হবে। আগে একসাথে চলতে হবে, একজন আরেকজনকে বুঝতে হবে, জানতে হবে। আসলে একশ বছর একসাথে চলেও অনেক সময় মানুষের মন বুঝা যায় না।  তারপরেও একজন অন্যজনের  সাথে কিছু সময় চললে একজন অন্যজন সম্পর্কে অনেকটা ধারণা নিতে পারে। আগে বন্ধুর মতো চলে সম্পর্কের শুরুটা হওয়া উচিত তারপর যদি মনে হয় এখানে একটি ভালোবাসা হতে পারে তবেই দুজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত।

 

তবে বন্ধুত্বও এক ধরণের ভালোবাসা ( Valobasha )। আসলে আমাদের জীবন চলার পথে একজনের প্রতি মায়া মহব্বত সবই ভালোবাসা। ভালোবাসা কি  বা ভালোবাসার সংজ্ঞা  কি তা মানুষ ভুলে গেছে। এই যুগে মানুষ ভালোবাসা বলতে বুঝে ‘ধর মার খা’। সম্পর্ক হতে হবে শক্তিশালী। যেটা গড়তে হবে গভীর মায়া মহব্বত দিয়ে। যে সম্পর্ক মানুষের সৌন্দর্য, অর্থ-সম্পত্তি, ক্ষমতা দেখে হয় সে সম্পর্ক বেশিদিন টিকে না।  তবে আজকাল মানুষের প্রেম শারীরিক সৌন্দর্যের মধ্যে চলে গেছে। মানুষ সৌন্দর্য দেখে ভালোবাসে কিন্তু মন দেখে ভালোবাসে না।  একটি সুন্দর সম্পর্কের জন্য অবশ্যই দুটি সুন্দর মনের দরকার হয়, সুন্দর চেহারা না। মনে রাখবেন মানুষের সৌন্দর্য একসময় শেষ হয়ে যায় কিন্তু একটি সুন্দর মনের ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না।

 

একটা জিনিস খুব লক্ষ করা যায় কাউকে ভালো লাগলে তার খারাপ দিকগুলো তেমন একটা নজরে নেওয়া হয় না, অথবা তার অন্যান্য গুনের কাছে খারাপ দিকগুলো তুচ্ছ মনে হয়। হ্যা প্রেম-ভালোবাসা হচ্ছে সেটাই যেখানে একজন সঙ্গী অন্যজনের ভালো দিকগুলো দেখেই প্রেমে পড়ে। কিন্তু এখানে কিছু জিনিস লক্ষ রাখা দরকার। এক সঙ্গী মনে করতে পারে অন্য সঙ্গীর খারাপ দিকগুলো একসময় ঠিক হয়ে যাবে। ধরা যাক একজন মানুষ সিগারেট খায় সেটা প্রথম সঙ্গীর ভালো লাগে না তবে একসময় হয়তো তাকে বলে কয়ে সিগারেট ছাড়াতে পারবে। কিন্তু একজন মানুষের ভিতরের স্বভাব কখনও বদলানো যায়। কারণ এগুলোর সাথে সে ছোটবেলা থেকে অভ্যস্ত অথবা ছোটবেলা থেকে সে এভাবেই মানুষ হয়েছে। ধরা যাক একজন মানুষ বদমেজাজি, চরিত্রহীন, রাগী অথবা কৃপন। প্রথম সঙ্গী মনে করতে পারে এগুলো আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে এগুলো সহজে ঠিক হয় না।

এখন কথা হলো বদমেজাজি, রাগী বা কৃপণ তাদের প্রেমে কি পড়া যাবে না? অবশ্যই যাবে কারণ তারাও মানুষ। কিন্তু একটি কথা মনে রাখা দরকার  প্রথম সঙ্গীর কতটুকু ধৈর্‍্য আছে, সে কি এগুলো মেনে নিতে পারবে? যদি মনে হয় মেনে নিতে পারবে তাহলে সে অব্যশ্যই তার প্রেমে পড়তে পারে বা বিয়েও করতে পারে। কিন্তু তার যদি ধৈর্যশক্তি না থাকে তাহলে নিজের আবেগকে পাত্তা না দিয়ে তাকে অবশ্যই তারমতো কাউকে বেছে নেওয়া উচিত। কারণ সম্পর্ক বা বিয়ের পর যখন দেখবে সঙ্গীর এই স্বভাবগুলো আর পরিবর্তন হয় না, তখন প্রথম সঙ্গী এ সম্পর্ক মেনে নেবে না। ফলে এক সময় না এক সময় সে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবেই। আর চরিত্রহীন কারো প্রেমে পড়লে একসময় নিজেকেও চরিত্রহীন হতে হয়।

 

ভালোবাসার শেষ বলতে কিছু নেই। তারপরেও একটি ভালোবাসার মধুর পরিনতি হয়ে বিয়ের মাধ্যমে। কিন্তু আজকাল দেখা যাচ্ছে সম্পর্ক ভাঙ্গার মতো বিয়েও ভেঙ্গে যাচ্ছে।  ভালোবাসার মধ্যে শ্রদ্ধা না থাকলে সেই সেই সম্পর্ক টিকে না। বর্তমান যুগে শ্রদ্ধাকে মানুষ দুর্বলতা ভাবে, একজনের প্রতি অন্যজনের কোনো শ্রদ্ধা নেই। অনেককেই বলতে শোনা যায় ভালোবাসার মানুষকে কেন শ্রদ্ধা করবো? যাকে শ্রদ্ধা করা হয় তাকে ভালোবাসা যায় না।  কিন্তু মনে রাখবেন এই শ্রদ্ধা ছাড়া সম্পর্ক কখনও টিকে না। যে ভালোবাসার মধ্যে মায়ার সাথে শ্রদ্ধা মেশানো থাকে সেই ভালোবাসাই শক্তিশালী হয়, টিকে থাকে যুগের পর যুগ।

 

আজকাল একজন নারী বা একজন পুরুষ একজন আরেকজনকে সহযোগী মনে করে না। দুজন দুজনের প্রতিযোগী ভাবে। তাই দিন দিন পারিবারিক কলহ মারাত্মক আঁকার ধারণ করছে। আরেকটি বিষয় দেখা যাচ্ছে আজকাল বিয়ে হচ্ছে সৌন্দর্যের সাথে ক্যারিয়ারের। একটা সময় ছিল যখন মানুষ ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতো বংশ দেখে। কিন্তু সেই প্রথা আজ বিলুপ্তের পথে। ছেলে বড় চাকরি করে আর মেয়ে সুন্দরী এটাই এই যুগে ছেলে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে বড় যোগ্যতা। একটা পরিবারের সাথে আরেকটা পরিবারের বা একটা ছেলের সাথে আরেকটা মেয়ের মনের মিল হলো সংসার টেকার পুর্বশর্ত। টাকা পয়সা, ক্যারিয়ার বা সৌন্দর্য মুখ্য বিষয় হতে পারে না। যেখানে এগুলো মুখ্য হয়ে যায় সেখানে আর ভালোবাসা থাকে না।

 

ভালোবাসার কথা  বলে শেষ করা যাবে না, ভালোবাসা অসীম।  ৪৯৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।  যদিও ভালোবাসা দিবস নিয়ে নানা বিতর্ক আছে তবুও ১৪ ফেব্রুয়ারি এখন ভালোবাসা দিবস হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আসলে ভালোবাসার কোনো দিন লাগে না। প্রতিটি মুহূর্তই এক একটি ভালোবাসা দিবস। শুধু চুমু খাওয়া, জড়িয়ে ধরা বা বিছানার সঙ্গী হওয়ার মুহূর্তকে ভালোবাসা বলে না। দুজন মানুষের একসাথে চলার পথে সকল মায়া মহব্বতই ভালোবাসা। একজন স্বামী একজন স্ত্রীর কাজে সাহায্য করে অথবা একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাজে সাহায্য করে এটাও ভালোবাসা। শুধু ভালবাসা না এটাই প্রকৃত ভালোবাসা। আবার একজন অসুস্থ হলে অন্যজন ব্যথিত হয়, সেবা করে এসবকিছুই ভালোবাসা। মোটকথা দুজন মানুষের সুখ দুঃখের অংশীদারিত্বই হলো ভালোবাসা।

লেখকঃ রেদোয়ান মাসুদ

কবি, উপন্যাসিক

আরো পড়ুন.. ভালোবাসার গল্প  ভালবাসার উক্তি

Check Also

বিলাসী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

পাকা দুই ক্রোশ পথ হাঁটিয়া স্কুলে বিদ্যা অর্জন করিতে যাই। আমি একা নই—দশ-বারোজন। যাহাদেরই বাটী ...

DMCA.com Protection Status