Skip to content

বাংলা কবিতা

Bangla kobita, Bengali Poetry, বাংলা কবিতা, kobita, কবিতা, Bengali poems.

Menu
  • Home
  • বিখ্যাত বাঙ্গালী কবি
  • কবিতার বিষয়
  • বাঙালি তরুণ কবি
  • অনুবাদ কবিতা
  • আবৃত্তি
  • PDF Download
  • বাংলা পত্রিকা
  • ৫০+ ছড়া, ছোটদের ছড়া কবিতা, চিরায়িত বাংলা ছড়া
  • Bangla Romantic Love SMS
Menu

প্রাণী – মোশতাক আহমেদ

Posted on October 31, 2017October 31, 2020 by বাংলা কবিতা

১. বিউন তার চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রাখল। তারপর চেয়ারে হেলান দিয়ে ডুবে গেল গভীর চিন্তায়। এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে সে। আদৌ বিশেষ প্রাণীগুলো সে বিক্রি করবে, কি করবে না। আর বিক্রি করলে মূল্য কেমন চাইবে তা এখনো ঠিক করতে পারেনি। অত্যন্ত মূল্যবান আর প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতীর এই প্রাণী মহাবিশ্বে একমাত্র পৃথিবীর কেন্দ্রীয় প্রাণী সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সবগুলোই ক্লোন, আর একারণে সবগুলোর চেহারা একই রকম। মহাবিশ্বের সকল গ্রহবাসী যেন অতি বুদ্ধিমান এই প্রাণীদের কখনো ভুলে না যায় সেজন্যই ক্লোনের মাধ্যমে এদেরকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে এদের সংরক্ষণের কোন উপায় নেই, কারণ এই প্রাণীর মেয়ে প্রজাতি অনেক আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় প্রাণী সংরক্ষণাগারে এই প্রাণীদেরকে এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন গ্রহ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রহবাসী ভীড় করে। কমপক্ষে ছয় মাস পূর্বে ওয়েবসাইটে টিকিট কাটতে হয়। কেন্দ্রীয় প্রাণী সংরক্ষণাগারের নিরাপত্তা কর্মীদের দর্শনার্থীদের ভীড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। টিকিটের মূল্য তিনগুন করেও কোন লাভ হয়নি। বরং দিনে দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মহাবিশ্বে মৃত্যুর আগে সবাই অন্তত একবার এই অতি বুদ্ধিমান প্রাণীর দর্শন পেতে চায়, তা না হলে তাদের জীবন যেন অপূর্ণ থেকে যাবে।
বিউন পেশায় একজন জীববিজ্ঞানী। পৃথিবী থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের নিয়ে সে গবেষণা করে। এ জন্য তার বিশাল একটা প্রাণী গবেষণাগার আছে। এই গাবেষণাগারেই গোপন চেম্বারে সে গত এক বছর ধরে বিশেষ প্রাণীগুলোকে পর্যবেক্ষণ করছে। সে কখনো প্রাণীগুলোকে বিক্রি করতে চায়নি। সম্প্রতি মারাত্মক আর্থিক কষ্টে পড়ার কারণে তার বিকল্প কোন উপায় নেই। অবশ্য সে চারটি প্রাণীর মধ্যে দুটিকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কাজটা তাকে অত্যন্ত গোপনে করতে হচ্ছে। সে জানে এই প্রাণীদের কথা বাইরে প্রকাশ হলে কি হতে পারে। নিশ্চিত তার মৃত্যু হবে। তারপর এই প্রাণীগুলোকে প্রেরণ করা হবে কেন্দ্রীয় প্রাণী গবেষণাগারে যেখানে এদের দেহের উপর চালা‌নো হ‌বে হাজারো নিষ্ঠুর আর নির্মম জৈবিক পরীক্ষা। আর এ ঘটনা পৃথিবীর গত এক হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্ময়কর সংবাদ হবে, কারণ এখন থেকে এক হাজার বছর পূর্বে এ ধরনের প্রাণীর সর্বশেষ অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। সেই প্রাণীর ক্লোনই এখন কেন্দ্রীয় প্রাণী সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত আছে।
বিউন আগেই ঠিক করেছে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য পৃথিবীতে কিংবা পৃথিবীর নিকটবর্তী কোন গ্রহে এই প্রাণীদের বিক্রি করবে না। তাইতো সে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত ‘মিকিউ’ গ্রহের ক্রেতা ‘নিনন’ এর কাছে প্রাণী দুটি বিক্রিতে সম্মত হয়েছে। নিনন কিছুক্ষণের মধ্যেই এখানে এসে পৌঁছাবে। নিরাপত্তার কারণে নিননের সাথে তার বিস্তারিত কথা হয়নি। এখানেই সকল কথা হবে। নিনন অবশ্য মিকিউ গ্রহের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি। মূলত মিকিউ গ্রহের প্রাণীরা তাদের প্রাণী সংরক্ষণাগারকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য এই প্রাণী দুটিকে ক্রয়ের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিউন অবশ্য আশাবাদী সে খুব ভালো মূল্য পাবে। কারণ সে যে প্রাণী মিকিউ গ্রহের নিনন এর কাছে বিক্রি করতে যাচ্ছে তা মহাবিশ্বে এক কথায় অমূল্য।
বিউনের চিন্তায় ছেদ পড়ল নিননের আগমনে। বিউন সামনের চেয়ারে নিননকে বসতে ইশারা করল। তারপর বলল, আমি আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি নিনন।
ধন্যবাদ বিউন। আমার হাতে সময় খুব কম। তাছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টা তো বুঝতেই পারছেন। তাই আমি চাচ্ছি অতি দ্রুত মিশন সম্পন্ন করতে।
আমিও তাই চাই। তবে আমি আপনাকে অনুরোধ করব নিরাপত্তার কারণে প্রাণীদের প্রজাতির নাম উচ্চারণ না করার জন্য। আমরা আমাদের আলোচনায় এই প্রাণীকে ‘প্রাণী’ বলেই সম্বোধন করব।
তাই হবে বিউন। এখন বলুন আপনার কাছে কি সত্যি এই প্রাণী আছে?
হ্যাঁ আছে। চারটি, দুটি মাঝ বয়সী এবং অন্য দুটি ওদের বাচ্চা।
অর্থাৎ আপনার কাছে মেয়ে প্রাণীও আছে? সন্দেহের চোখে বলল নিনন।
হ্যাঁ আছে। একটি বড় মেয়ে, আর অন্যটি ছোট মেয়ে।
আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। পৃথিবীতে এই প্রাণীর যত ক্লোন রয়েছে সবই তো ছেলে। কোন মেয়ে তো নেই।
হ্যাঁ তাই, কিন্তু আমার কাছে আছে।
আপনি ওদেরকে পেলেন কিভাবে?
আমি গবেষণার কাজে বনাঞ্চলে গিয়েছিলাম। সেখানেই মাটির নীচে আমি ওদের ছোট্ট একটা এলাকার সন্ধান পাই। এক হাজার বছর ধরে বংশানুক্রমিকভাবে এরা ঐ এলাকায় বসবাস করে আসছিল। বনের মধ্যে হওয়ায় পৃথিবীর কেউ এই এলাকাটা খুঁজে পায়নি। এমনকি আমাদের নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরাও না। ঘটনাক্রমে এলাকাটি আমার নজরে পড়ে। ওখানেই এদের চারজনকে একটি ছোট্ট ঝোপের মধ্যে থেকে আটক করি।
তাহলে তো এরকম আরো প্রাণী থাকতে পারে।
থাকতে পারে। তবে আমি পাইনি। অ‌নেক খুঁ‌জে‌ছি।
অবিশ্বাস্য ব্যাপার! ওরা কি প্রতিহত করতে চেষ্টা করেনি?
করেছিল। কিন্তু আমাদের সাথে পেরে উঠেনি। বুদ্ধির বিবেচনায় ওরা অতি উন্নত হলেও শক্তির বিবেচনায় আমাদের থেকে অনেক নিচে। যাইহোক, সেই থেকে প্রাণীগুলো আমার কাছে আছে। আমি অবশ্য সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রক্ষা করে অতি যত্নে ওদের লালন পালন করছি।
আপনি এই প্রাণীগুলোর শরীরে গবেষণার উদ্দেশ্যে কোন কৃত্রিম ওষুধ প্রবেশ করিয়েছেন কি?
না নিনন। প্রথমে আমি এদেরকে নিয়ে গবেষণাই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন যেন পারলাম না। প্রাণীগুলো এতো ভাল যে আপনাকে বোঝাতে পারব না। দেখলেই মায়া হয়। আর ওদের বাচ্চা দুটো কী ফুটফুটে! সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো ওদের অভ্যন্তরের ভালবাসা। ওরা নিজেরা একে অন্যকে খুব ভালবাসে। আমাদের মতো ওদের দুঃখ-কষ্ট, যন্ত্রণা, আনন্দ-বেদনা, সুখ-শান্তির অনুভূতি রয়েছে। আপনি দেখলে অবাক হবেন যে, ওরা আমাদের মতোই কাঁদতে পারে, কাঁদলে ওদের চোখ দিয়ে অশ্রু বের হয়।
আপনার সকল বক্তব্যই এই প্রাণীগুলোর মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যাচ্ছে। ওরা কি নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে?
ওদের আচরণে মনে হয় ওরা আমাদের মতোই কথা বলে। আমি তো আর ওদের ভাষা বুঝি না। একবার ভেবেছিলাম ওদের শব্দগুলো রেকর্ড করে বাইরে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখব, আদৌ ঐ শব্দগুলো ওদের ভাষা কিনা? কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাহস পাইনি এই ভয়ে যে সকলে ওদের কথা জেনে যেতে পারে।
হ্যাঁ, বিউন আপনি ভালোই করেছেন। আর ওদের বুদ্ধিমত্তা কেমন?
চমৎকার, অসাধারণ। খুব দ্রুত ওরা সবকিছু শিখে নিতে পারে। এখানে নিয়ে আসার পর আমাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি, অল্পতেই সব কিছু শিখে নি‌য়ে‌ছে। ওরা নিজেরাই নিজেদের যত্ন নেয়, নিজেদের প্রতি খেয়াল রাখে। ইতিমধ্যে আমার সাথেও চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি ওদেরকে কি বলতে চাই সহজেই ওরা বুঝতে পারে। তাছাড়া প্রাণীগুলো বেশ পরিচ্ছন্ন, অন্যান্য প্রাণীর মতো নোংরা নয়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, মহাবিশ্বের সকল প্রাণীর ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
বিউন আপনি ঠিকই বলেছেন। আপনাকে বুঝতে হবে এরা প্রকৃতিরই অংশ, এবং প্রকৃতি থেকেই আমরা সবচেয়ে বেশি শিক্ষা গ্রহণ করি। কাজেই এই প্রাণী থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার থাকতে পারে। যাইহোক, বিউন আমি আপনার বর্ণনায় সন্তুষ্ট। আমার মনে হচ্ছে আমরা যে প্রাণী খুঁজছি আপনার সংরক্ষিত প্রাণী সেই প্রাণীই হবে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি আপনার প্রাণীগুলো দেখতে চাই।
অবশ্যই দেখবেন। তার পূর্বে আমাদের মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারটা চূড়ান্ত করতে হবে।
প্রাণীগুলো দেখার পর করলে হয় না?
না হয় না। আমরা প্রথমে মূল্য ঠিক করব। যদি আপনার মূল্য আমার পছন্দ হয় তাহলেই আপনি প্রাণীগুলোকে দেখতে পাবেন। প্রাণী পছন্দ হলে আপনি ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আমার একাউন্টে মূল্য পরিশোধ করবেন। একমাত্র তখনই আপনি প্রাণীগুলোকে নিয়ে যেতে পারবেন। তার আগে নয়।
আর যদি প্রাণীগুলোকে আমার পছন্দ না হয়?
তাহলে আপনাকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। আপনি সরাসরি আপনার গ্রহে চলে যাবেন। আমি চাই না প্রাণীগুলো দেখার পর প্রাণীর মূল্য নিয়ে আমাদের মধ্যে মত-পার্থক্যের সৃষ্টি হোক। আমি সবকিছু আগেই চূড়ান্ত করে নিতে চাই। বেশ গম্ভীরভাবে বলল বিউন।
ঠিক আছে তাই হবে। এখন বলুন, বাচ্চা প্রাণী দুটির জন্য আপনাকে কত মূল্য দিতে হবে?
আপনিই বলুন। বলল বিউন।
না আপনি বলুন। প্রাণী আপনার, আপনিই এই প্রাণীগুলোর সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে পারবেন।
বিউন একটু সময় নিল। তারপর বলল, পৃথিবীর মুদ্রা পিনির হিসাবে দশ ট্রিলিয়ন পিনি।
নিননের চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইল। সে বিস্মিত হয়ে বলল, এ আপনি কি বলছেন! এতো অসম্ভব! পৃথিবীর অনেক ব্যাংকেরওতো এতো পিনির সম্পত্তি নেই। এই পরিমাণ পিনি পেলে আপনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হবেন। আমি তো আপনাকে কিছুতেই এত মূল্য প্রদান করতে পারব না।
তাহলে আমি দুঃখিত। আমার কথা একটাই। আপনি আমাকে মূল্য বলতে বলেছেন, আমি বলেছি। আমি এর থেকে এক পিনি কমেও আপনার কাছে এই বিশেষ প্রাণী বিক্রি করব না। বিউন স্পষ্টভাবে কথাগুলো বলল।
আপনি একটু বুঝতে চেষ্টা করুন।
বিউন তার চশমা খুলে আবার চোখে পরল। তারপর টেনেে টনে বলল, এতে বুঝার কিছু নেই। আপনি মিকিউ গ্রহের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি। দশ ট্রিলিয়ন পিনি আপনার জন্য খুব কঠিন কোন ব্যাপার নয়। তাছাড়া আপনাকে প্রাণীগুলোর গুরুত্ব বুঝতে হবে। মাত্র বিশ বছরে এই প্রাণী প্রদর্শন করে আপনার দশ ট্রিলিয়ন পিনি উপার্জন করতে পারবেন। তাছাড়া আপনাদের কাছে মেয়ে প্রাণীও থাকবে যা মহাবিশ্বের অন্য কোন গ্রহে নেই। কাজেই দর্শনার্থীদের ভীড় আপনারা সামলে উঠতে পারবেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। উপরন্তু আপনারা যদি ক্লোনের মাধ্যমে এই প্রাণী সৃষ্টি করে অন্যান্য গ্রহে বিক্রি বা রপ্তানী করেন তাহলে দশ ট্রিলিয়ন পিনি তুলে আনতে দুই বছরও লাগবে না। এখন বলুন আপনি রাজি কিনা?
নিনন একটু সময় নিল। তারপর বলল, রাজি।
তাহলে চলুন, আপনাকে প্রাণীগুলো দেখিয়ে নিয়ে আসি।
বিউন নিননকে আন্ডার গ্রাউন্ডে বিশেষ একটা কক্ষে নিয়ে এলো। সেই কক্ষের মাঝে মাঝারি আকৃতির একটি খাঁচার মধ্যে চারটি প্রাণী রাখা। এখানে আসার আগে নিনন এই প্রাণী সম্পর্কে প্রচুর পড়াশুনা করলেও আগে কখনো এই প্রাণীদের দেখেনি। শুধু ছবিতে দেখেছে। এই প্রথম বাস্তবে দেখছে। চারটি প্রাণীই তার দিকে অবাকভাবে তাকিয়ে আছে। বাচ্চা প্রাণী দুটি বোধহয় কিছুটা ভয় পেয়েছে। দুটিই এক কোণায় গুটিশুটি মেরে আছে। মাঝে মাঝে চোখ পিট্ পিট্ করে তাকাচ্ছে।
প্রাণীগুলোকে দেখে নিননের মুখে এক রকম তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে অস্পষ্ট উচ্চারণে বলল, প্রাণীগুলো উচ্চতায় আমাদের থেকে অনেক ছোট, সবচেয়ে বড় প্রাণীটা আমার দেহের তিন ভাগের এক ভাগ হবে। প্রাণীগুলোর দেহের আকারও ছোট। আমি বুঝতে পারছি না এত ছোট প্রাণী কিভাবে এত বুদ্ধিমান হয়? যাইহোক প্রাণীগুলোকে আমার পছন্দ হয়েছে।

২.

দু’দিন পর। মহাশূন্যে ছুটে চলছে স্পেসশীপ ‘হিডিন’। ‘হিডিন’ মিকিউ গ্রহের স্পেসশীপ। গোপন এক মিশনে হিডিন পৃথিবীতে এসেছিল। সেই মিশন শেষে হিডিন এখন আবার মিকিউ গ্রহে ফিরে যাচ্ছে। এই গোপন মিশনটি ছিল বিশেষ এক প্রজাতির প্রাণী ক্রয় করা। হিডিনের ক্যাপ্টেন নিনন সেই প্রাণীগুলোকে কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ক্রয় করতে পেরেছে। প্রাণীগুলোকে হিডিনে গোপন একটি কক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। এই অতিরিক্ত নিরাপত্তার বিশেষ যুক্তিও আছে। মহাবিশ্বে দুর্লভ এই প্রাণীর মেয়ে প্রজাতি শুধু তার কাছেই আছে। বিউনের প্রাণী গবেষণাগার ত্যাগ করার সময় কৌশলে সে সেখানে ছোট্ট একটা টাইম বোমা রেখে এসেছিল। বিউন প্রাণী বিজ্ঞানী হওয়ায় কিছুই টের পায়নি। বোমা স্থাপনের চব্বিশ ঘণ্টা পর অর্থাৎ গতকাল বিস্ফোরণ ঘটেছে বোমাটির। সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে গেছে বিউনের প্রাণী গবেষণাগার। একই সাথে মৃত্যু হয়েছে বিউন এবং তার ওখানে অবশিষ্ট দুই দুর্লভ প্রাণীর।
নিনন ধীরে পায়ে গোপন কক্ষে প্রবেশ করল। প্রাণীগুলোকে গত দু’দিন ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। আজ ওদেরকে জাগান হয়েছে। তাও খুব সামান্য সময়ের জন্য। আবার ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে। মিকিউ গ্রহে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত যত ঘুমাতে পারে ততই ওদের জন্য মঙ্গল। কারণ মিকিউ গ্রহে ওদের দিনগুলো হবে খুবই ভয়ঙ্কর। তখন ওরা আর ঘুমানোর সময় পাবে না। ওদের শরীরে হাজারো জৈবিক পরীক্ষা চালান হবে। দিন রাত, মাস-বছর যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তখন মুক্তির আর কোন উপায় থাকবে না। ঘুমতো দূরের কথা, হয়তো সামান্য চোখ বুজারও সময় পাবে না ওরা।
ছোট্ট একটা খাঁচার মধ্যে প্রাণী দুটিকে রাখা হয়েছে। দুটি প্রাণীই জেগে আছে। চোখে ভয় আর আতঙ্ক। প্রাণীগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পড়াশুনা করার সময় এই প্রাণীগুলোর ভাষাও কিছুটা রপ্ত করেছিল নিনন। তাই তার ইচ্ছা এই ভাষা ব্যবহার করে এদের সাথে দু’একটা কথা বলা যায় কিনা তা চেষ্টা করে দেখা।
নিনন খাঁচার দরজায় মুখ রেখে হিস্ হিস্ করে শব্দ করল। আর তাতে মেয়ে প্রাণীটা ভয় পেয়ে ছেলেটার আরো কাছে গিয়ে বসল। নিনন বেশ মজা পেল। সে আবারও মুখ দিয়ে হিস্ হিস্ শব্দ করল।
প্রাণী দু‌টো ভয় পেয়ে একে অন্যের আরো কাছে এলো।
নিনন এবার মিষ্টি স্বরে বলল, এই প্রাণীরা, তোমরা ভয় পাচ্ছ কেন?
সাথে সাথে ফুঁসে উঠল ছেলে প্রাণীটা। মাথা উচু করে জোর গলায় ধমকে উঠে বলল, আমাদেরকে প্রাণী বলছ কেন? আমাদেরকে সম্মান করে কথা বলো। আমরা পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব ‘মানুষ’।

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • গল্প (প্রেম ভালোবাসার ছোট গল্প)
  • পিডিএফ বই ডাউনলোড
  • অনুবাদ কবিতা
  • আবৃত্তি
  • অতুলপ্রসাদ সেন
  • অন্নদাশঙ্কর রায়
  • অমিয় চক্রবর্তী
  • অরুণ মিত্র
  • আ. ন. ম. বজলুর রশীদ
  • আনিসুল হক
  • আবদুল গাফফার চৌধুরী
  • আবদুল হাকিম
  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  • আবুল হাসান
  • আবুল হোসেন
  • আরণ্যক বসু
  • আল মাহমুদ
  • আলাউদ্দিন আল আজাদ
  • আলাওল
  • আসাদ চৌধুরী
  • আহসান হাবীব
  • ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  • ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  • কাজী কাদের নেওয়াজ
  • কাজী নজরুল ইসলাম
  • কামিনী রায়
  • কায়কোবাদ
  • কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  • কুসুম কুমারী দাশ
  • খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিন
  • গগন হরকরা
  • গোবিন্দচন্দ্র দাস
  • অনুপ্রেরণামূলক কবিতা
  • ইসলামিক কবিতা
  • উপদেশমূলক কবিতা
  • একুশের কবিতা
  • কষ্টের কবিতা
  • ছোটদের ছড়া কবিতা
  • জন্মদিনের কবিতা
  • দুঃখের কবিতা
  • দেশের কবিতা
  • নারীকে নিয়ে কবিতা
  • নীতি কবিতা
  • পহেলা ফাল্গুনের কবিতা
  • প্রকৃতির কবিতা
  • প্রেমের কবিতা
  • বসন্তের কবিতা
  • বিদ্রোহী কবিতা
  • বিরহের কবিতা
  • বৃষ্টির কবিতা
  • গোলাম মোস্তফা
  • চণ্ডীদাস
  • চন্দ্রাবতী
  • জয় গোস্বামী
  • জসীম উদ্‌দীন
  • জীবনানন্দ দাশ
  • তসলিমা নাসরিন
  • তারাপদ রায়
  • দেবব্রত সিংহ
  • নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
  • নবারুণ ভট্টাচার্য
  • নির্মলেন্দু গুণ
  • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
  • পূর্ণেন্দু পত্রী
  • প্রেমেন্দ্র মিত্র
  • ফররুখ আহমদ
  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • বন্দে আলী মিঞা
  • বিনয় মজুমদার
  • বিষ্ণু দে
  • বুদ্ধদেব বসু
  • ছোট গল্প
  • নাজিম হিকমত
  • পাবলো নেরুদা
  • বৈশাখের কবিতা
  • ভালোবাসার কবিতা
  • মাকে নিয়ে কবিতা
  • মুক্তিযুদ্ধের কবিতা
  • মে দিবসের কবিতা
  • যুদ্ধের কবিতা
  • রম্য কবিতা
  • রাজনৈতিক কবিতা
  • রূপক কবিতা
  • রোমান্টিক কবিতা
  • শীতের কবিতা
  • শুভ নববর্ষের কবিতা
  • ভবানীপ্রসাদ মজুমদার
  • ভাস্কর চক্রবর্তী
  • মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  • মল্লিকা সেনগুপ্ত
  • মহাদেব সাহা
  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  • মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী , কবিকঙ্কণ
  • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  • যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  • যোগীন্দ্রনাথ সরকার
  • রজনীকান্ত সেন
  • রফিক আজাদ
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী
  • রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু)
  • রুদ্র গোস্বামী
  • রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  • রোকনুজ্জামান খান
  • লালন ফকির
  • শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  • শঙ্খ ঘোষ
  • শহীদ কাদরী
  • শামসুর রাহমান
  • শাহ মুহম্মদ সগীর
  • শিবরাম চক্রবর্তী
  • শুভ দাশগুপ্ত
  • শেখ ফজলল করীম
  • শ্রীজাত
  • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  • সলিল চৌধুরী
  • ভালোবাসার গল্প
  • মোশতাক আহমেদ
  • রেদোয়ান মাসুদ
  • শেখ সাদী
  • সিকান্দার আবু জাফর
  • সুকান্ত ভট্টাচার্য
  • সুকুমার বড়ুয়া
  • সুকুমার রায়
  • সুনির্মল বসু
  • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  • সুফিয়া কামাল
  • সুবোধ সরকার
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  • সৈয়দ শামসুল হক
  • হাসন রাজা
  • হুমায়ুন আজাদ
  • হুমায়ুন কবির
  • হুমায়ূন আহমেদ
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  • হেলাল হাফিজ
  • স্বাধীনতার কবিতা
©2026 বাংলা কবিতা | Design: Newspaperly WordPress Theme